গণ-অভ্যুত্থানে হতাহতদের পরিবারকে সহযোগিতা প্রদান অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে যুক্ত হয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বক্তব্য রাখছেন। সোমবার বিকেলে কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের পুরাতন স্টেডিয়ামে
কিশোরগঞ্জ জেলার উন্নয়ন পরিকল্পনার বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘কিশোরগঞ্জ জেলা বাংলাদেশের মধ্যে অন্যতম একটি সম্ভাবনাময় জেলা। যেখান থেকে দেশের মোট ধান উৎপাদনের ১৬ শতাংশ আসে। যদি সঠিক পরিকল্পনা ও কৃষকদের সহযোগিতা করা যায়, তাহলে আরও উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। তা ছাড়া এই জেলার হাওরাঞ্চলের মিঠাপানির মাছের জন্য বিখ্যাত। সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে এই মাছও বিদেশে রপ্তানি করে গার্মেন্টস শিল্পের মতো বৈদেশিক আয় সম্ভব। এমনকি হাওর–অধ্যুষিত অষ্টগ্রাম উপজেলার পনির ইতিমধ্যে দেশ-বিদেশে অনেক খ্যাতি অর্জন করেছে। এই অষ্টগ্রামের বিখ্যাত পনিরকে বিশ্বের কাছে আরও পরিচয় করার মাধ্যমে আমরা বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে পারি।’
তারেক রহমান আরও বলেন, ‘আমার মনের একটি ইচ্ছে, বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলসহ প্রতিটি এলাকায় প্রতিটি পরিবারের জন্য একটি ফ্যামিলি কার্ড করা। এ কার্ড হবে পরিবারের নারী সদস্য আমাদের মা ও গৃহিণীর নামে, যাতে প্রতি মাসে এ কার্ডের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি পরিবার কিছুটা আর্থিক সহায়তা পায়।’
দলমত–নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘দেশের স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে করতে হবে। যে কারণে আমরা বিএনপির পক্ষ থেকে ৩১ দফায় বলেছি, সবাইকে নিয়ে ভবিষ্যতে আমরা একসঙ্গে সরকার গঠন করব। বিগত দিনে যেসব দল আমাদের সঙ্গে আন্দোলন–সংগ্রামে ছিল, তাদের সবাইকে নিয়েই সরকার গঠন করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করা হবে।’ বক্তৃতার শেষ দিকে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের বাইরে আমার কোনো ঠিকানা নেই। এই বাংলাদেশই আমার প্রথম ও শেষ ঠিকানা।’
অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের দিন তারেক রহমান বিএনপির নেতা-কর্মীদের শান্ত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন বলেই দেশে বড় ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমরা শুধু শেখ হাসিনার পদত্যাগ চেয়েছিলাম। কিন্তু তিনি শোনেননি। ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের কারণে এখন তাঁকে শুধু পদত্যাগ নয়, দেশত্যাগ করতে হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন ছাড়া সঠিক গণতন্ত্র ফিরে আসবে না। তাই এই সরকারের প্রতি আমাদের আহ্বান থাকবে, সবার সহযোগিতা নিয়ে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা।’
কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি শরীফুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উপদেষ্টা মো. ফজলুর রহমান, কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ, ওয়ারেস আলী প্রমুখ।

